Friday, April 24, 2020

মৃত্যু

মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

মৃত্য তোমার ঘাড়ে রাখে
নিত্য আসন তার,
একদিন তোমায় এ ধরাতে
রাখবে না সে আর।
তার শেকলের বন্ধন থেকে পাবে না নিস্তার-
মৃত্য তোমার ঘাড়ে রাখে নিত্য আসন তার।।

দারা-পুত্র, ধন-মান তোমার
সেরা আকর্ষণ,
রাখছ হর্ষ আর জৌলুসে 
উদ্দীপিত মন।
নেইকো তোমার আদৌ খবর আপন ঠিকানার-
মৃত্যু তোমার ঘাড়ে রাখে নিত্য আসন তার।।

এ ধরা নয় কভু তোমার 
স্থায়ী বাসস্থান,
পরকালে হবে তোমার
চির অবস্থান।
সে আবাসের করবে মরণ কাণ্ডারীর কারবার-
মৃত্যু তোমার ঘাড়ে রাখে নিত্য আসন তার।।

পৃথিবীটা পরকালের
পুঁজি করার স্থান।
বিশাল পুঁজি করো মেনে
আল্লাহর বিধান।
নইলে হবে মহাবিপদ সেকালে তোমার-
মৃত্যু তোমার ঘাড়ে রাখে নিত্য আসন তার।।

পাপ বা পুণ্য যা করেছো
ধরায় জীবন ভর,
সে মোতাবেক স্বর্গ নরক
পাবে মৃত্যুর পর।
মরণ আসার আগে দরকার বিষয়টি ভাবার-
মৃত্যু তোমার ঘাড়ে রাখে নিত্য আসন তার।
                 .......





Monday, April 20, 2020

চাল চোরা চেয়ারম্যানের শাস্তির গান


         মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

ধর কান জোরে টান
ওঠবস কর,
চাল চোরা হলি তাই
লাথি খেয়ে মর-
ধর কান জোরে টান ওঠবস কর।।

রিলিফের চাল চুরি  
করবি না আর,  
কান ধরে বল এটি
কাছে জনতার।
নতুবা জনতা দেবে চড় ও থাপ্পর-
ধর কান জোরে টান ওঠ বস কর।।

তোর মত চেয়ারম্যান
দেশে আছে যারা,
জনতার রোষানলে
পড়ে থাকে তারা।
করবি না চাল চুরি, তাই কান ধর-
ধর কান জোরে টান ওঠ বস কর।।

কান ধরা খায় যারা
জনতার কাছে,
ইতরের মত তারা
এ সমাজে বাঁচে। 
নীচুমাথা হয়ে তারা থাকে জনমভর-
ধর কান জোরে টান  ওঠ বস কর।।

Saturday, April 4, 2020

বৃক্ষ

মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

সৃষ্টির মাঝে বৃক্ষ সেরা
    আশীর্বাদ আল্লার,
এর মতো নেই উপাকারী
    ধরায় কিছু আর।

বসবাসের যোগ্য রাখে
    বৃক্ষ পৃৃৃথিবীকে,
পুষ্প দিয়ে সুশোভিত
    করে প্রকৃতিকে।

বাঁধা প্রদান করে এটি
   দুর্যোগ আগমনে, 
মৃত ধরায় প্রাণ জাগাতে
    বর্ষে এর কারণে।

পরিবেশের ভারসাম্যও
       বৃক্ষ রক্ষা করে, 
ভূমিতে সে মানবজাতকে
        প্রাচুর্য দেয় ভরে।

গ্রীনহাউজের প্রভাব থেকে 
    বাঁচায় এটি ধরা
অন্যথায় এ ধরা হতো
     তপ্ত মরুর খরা। 

ক্ষিতি থেকে দারিদ্রতা
   বৃক্ষে করে মোচন,
এ কারণে হয় না কারো
    দুঃখের জীবন যাপন।

এটি স্রষ্টার অপূর্ব দান 
    তাই এর দ্বারা ধরায়,
প্রয়োজনের সকল কিছু 
    তৈরী করা যায়।

ফল ফলাদি দিয়ে বৃক্ষ
   বাঁচায় প্রাণীকূল,
এ ছাড়া সব প্রাণী হবে
     ধরাতে নির্মূল। 

 তাইতো বলছি, সচেতন হও 
    বঙ্গের জনগণ,
বৃক্ষ বেশি রোপন করো,
   বন্ধ করো নিধন। 
           ........

রচনাকালঃ ২৭-৯-২০০৭ খ্রি. রাত ১ টা ২০ মিনিট।

Friday, April 3, 2020

মুনাজাত

         মুনাজাত
  মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

সর্ব সৃষ্টির স্রষ্টা তুমি 
  ওহে পরওয়ার,
 দু'হাত তুলে করছি আরজ 
    দরবারে তোমার।

আমাদের সব সৎ প্রচেষ্টা, 
  সৎ চিন্তা আর কাজ, 
কবুল এবং মঞ্জুর করো 
  হে রাজাধিরাজ! 

আমাদেরকে করো শুধু
   তোমার অনুগত,
আর অনুরূপ করো মোদের
   বংশে আসবে যত।

আমাদেরকে দেখাও সঠিক 
    বন্দেগীর পদ্ধতি,
তওবা মোদের কবুল করো
    ওহে অধিপতি!

নিশ্চয় প্রভু তুমি বান্দার 
  তাওবা কবুলকারী,
করুণাময় এবং সকল 
  গুনাহ মোচনকারী।  

ইহকাল আর পরকালে
     চাই মোদের কল্যাণ,
জাহান্নামের অগ্নি থেকে
       দিয়ো পরিত্রাণ। 

তুমি হলে স্রষ্টা মোদের
    আমরা তোমার বান্দা,
তোমার নির্দেশ ভুলে আমরা
     করি নিজের ধান্ধা।

তাইতো মোদের হয়ে গেছে
   পাহাড় সমান পাপ,
দয়াময় হে মহাপ্রভু! 
    করো মোদের মাফ।

বিশ্ব এখন হয়ে গেছে
    মৃত্যুপুরীর মত,
দিবারাত্র চলছে লাশের
    মিছিল শত শত।

এ মরণের জন্যে বেশি
     কবিড-১৯ দায়ী,
প্রাণঘাতি এ ভাইরাস বিশ্বে
       হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী।

এ ভাইরাসের কাছে এখন
     মানুষ অসহায়,
এর থেকে ত্রাণ দাও হে খোদা,
      হও মোদের সহায়।

            ....... 
   



 

Wednesday, April 1, 2020

এপ্রিলপুল কি?

'এপ্রিলপুল' কি?

মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

ইংরেজি সনের ৪র্থ মাসের নাম হচ্ছে 'এপ্রিল' (April) এবং পুল (Fool) শব্দের অর্থ হচ্ছে বোকা। অতএব, 'এপ্রিলপুল' মানে এপ্রিল মাসের বোকা। তাই, কারা এ এপ্রিল মাসের বোকা সেটি জানার জন্যে ইতিহাস পাঠ একান্ত প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। যাদের এ ইতিহাস জানা নেই, তাদের জন্যে ইতিহাসটি সংক্ষেপে নিম্নে তুলে ধরলাম।

এনসাইক্লোপিডিয়া ও ইতিহাস গ্রন্থের বরাতে
ড. আবু বকর মুহাম্মদ যাকারিয়া সম্পাদিত ‘পহেলা এপ্রিল’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, স্পেনের অত্যাচারিত মানুষদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুসলিম বাহিনী ৯২ হিজরি মুতাবেক ৭১১ খ্রি. স্পেনে প্রবেশ করেন। তারাই ইউরোপের মানুষদেরকে জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষা দেন। স্পেনের গ্রানাডা, কর্ডোভা ও অন্যান্য শহরে মুসলমানগণ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন। তাদের স্থাপিত বিশ্ববিদ্যালযগুলোতে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে। ৭১১-১৪৯২ খ্রি. পর্যন্ত প্রায় আটশ বছর ধরে স্পেন, ফ্রান্স ও পর্তুগাল মুসলমানগণ শাসন করেন। এটি ছিল মুসলমানদের জন্য স্বর্ণযুগ। শেষ দিকে তাঁদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছড়িয়ে পড়ে। মুসলিগণ কুরআন-সুন্নাহ ভুলে গিয়ে দুনিয়ার মায়ায় মত্ত হয়ে যান। নেতার নির্দেশ তাঁরা অমান্য করে চলেন।এতে তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা বেড়ে যায়। তখন তাঁরা স্পেন ছাড়তে বাধ্য হন। ফলে খ্রিস্টানরা মুসলমানদের ক্ষমতা থেকে ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন অঞ্চল  ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়।

আজ থেকে ৫২২ বছর আগে মুসলিম অধ্যুষিত
৮৯৮ হিজরি মোতাবেক ১৪৯৩ খ্রি. রাজা
ফার্দিনান্ড ও রানী ঈসাবেলার যৌথ উদ্যোগে
মুসলিমদের শেষ রাজধানী গ্রানাডা দখল করে নেয়। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, চিকিৎসা, রাজনীতি, স্থাপত্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দেখে মুসলমানদের ক্ষতি করার জন্য রাজা ফার্দিনান্ড এক ভয়ঙ্কর ফন্দি আঁটে। মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। যুদ্ধে মুসলমানগণ পরাজিত হয়ে রাজা-রানীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এমতাবস্থায় ফার্দিনান্ড ঘোষণা করে, যেসব মুসলিম, মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেবে, তাদেরকে নিরাপদে আশ্রয় দেওয়া হবে। তার ঘোষণায় চল্লিশ হাজার মুসলমান আত্মবিশ্বাসী হয়ে গ্রানাডার বিভিন্ন মসজিদে আশ্রয় নিলেও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। মসজিদের দরজাগুলো বাহির থেকে বন্ধ করে দিয়ে মসজিদের মেঝেতে পেট্রল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে তাদেরকে হত্যা করে রাজা ফার্দিনান্ড। ঐতিহাসিক এক বর্ণনা মতে তিন দিন ধরে হত্যার উৎসব চলে। মসজিদের বাহিরেও অসংখ্য মুসলিমকে আগুনে পুড়িয়ে, পাহাড় থেকে ফেলে, সমুদ্রের মধ্যে জাহাজ ডুবিয়ে ও গণজবাই করে হত্যা করে। অনেক মুসলিমকে জোর করে ধর্মান্তরিত করে। অথচ মুসলমানগন এ রকম একটি অবস্থার জন্য প্রস্তুত না থাকায় সেদিন তাদের এমন করুণ অবস্থার সূচনা হয়। শুধু তাই নয়, সেদিন খ্রিস্টান গুরুর আদেশে জ্ঞান-বিজ্ঞানের মূল সূত্র লক্ষ লক্ষ আরবি পুস্তক পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। কেবল মুসলিমগণ নয়, ইয়াহুদীদের উপরও খ্রিস্টানেরা সেদিন একই রূপ অত্যাচার চালায়।

এ সময়ে রাজা ফার্দিনান্ড উপহাস করে বলেছিল,
হায় মুসলমান, তোমরা হলে এপ্রিলের বোকা।
মুসলিমদের মিথ্যা আশ্বাসের মাধ্যমে বোকা
বানানোর সময়কে স্মরণীয় করে রাখতে এপ্রিল ফুল পালন করা হয়। ফলে, খ্রিস্টানরা কর্ডোভার সেই ঐতিহাসিক মসজিদটিকে গীর্জায় পরিণত করে। মসজিদের ভেতরে দরজা ও জানালার ফাঁকে ফাঁকে মূর্তি স্থাপন করে। এভাবেই তারা মুসলিম ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে ফেলে। এ ঘটনা ছাড়া আরো দুটি ঘটনার কথা উইকিপিডিয়াতে উল্লেখ থাকলেও বর্ণিত ঘটনাটিই সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ বলে ঐতিহাসিকগণ মত প্রকাশ করেছেন। (দৈনিক ইনকিলাব, ২৮/৩/২০১৫)।

অতএব, মুসলিম দেশে মুসলমানদের এপ্রিলপুল পালন  যুক্তিসঙ্গত নাকি লজ্জাকর তা ভেবে দেখুন।

Monday, March 30, 2020

শান্তির পায়রা না ওড়ার কারণ

শান্তির পায়রা না ওড়ার কারণ

      মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

যা বলে লোক করে না তা
যা করে তা বলে না,
গালভরা সব কথা চলে
কর্মে কথার মিল হয় না।
তাইতো একে অন্যের ওপর আস্থা এখন রাখে না-
এ কারণে শান্তির পায়রা এখন কোথাও ওড়ে না।

এ সমাজে লোকজন এখন 
বাস্তবতায় দেখা যায়,
থাকে লিপ্ত পরচর্চা, মিথ্যা
লোভ আর ছলনায়।
আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা কেউ নিয়ম-নীতি মানে না-
একারণে শান্তির পায়রা এখন কোথাও ওড়ে না।।

ভাল কর্মের আদেশ নেই আজ
অসৎ কর্মে নেই বাঁধা,
কেবল গায়ের জোর থাকলে হয়
এ সমাজেে শাহ্জাদা।
তাই সমাজে নিরীহদের দুঃখের সীমা থাকে না-
এ কারণে শান্তির পায়রা এখন কোথাও ওড়ে না।।

সবে নিজকে জ্ঞানী ভাবে
বিজ্ঞজনে পায় না দাম,
উজ্জ্বল জাতির তালিকায় তাই
থাকিতছে না কারো নাম।
লোকজন এখন কি জানে না তাও কিন্তু জানে না-
এ কারণে শান্তির পায়রা এখন কোথাও ওড়ে না।।

শাস্ত্রের কথা শুনলে যেন
অন্তরে পায় সবে শূল,
সমাজে তাই সর্বকাজে
মানুষ করে প্রায়ই ভুল-
ঐক্য এবং সম্প্রীতিতে সমাজে কেউ থাকছে না-
এ কারণে শান্তির পায়রা এখন কোথাও ওড়ে না।।
                   .......

Friday, March 27, 2020

হযরত শাহ্ আবদুল জব্বার (রহঃ) স্মরণে

হযরত শাহ্ আবদুল জব্বার (রহঃ) স্মরণে

    মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

কথা, কাজ আর চিন্তায় মরহুম সূফী আবদুল জব্বার 
কলজয়ী এক পীরে কেবলা ছিলেন বীর চট্টলার।

ইহকাল ও পরকালীন মানুষের কল্যাণে ,
কঠোর সংগ্রাম চালিয়ে যান তিনি মনে প্রাণে ।
সর্ব কর্ম করতেন তিনি সন্তুষ্টিতে খোদার,
মনটা আদৌ ছিল না তার মোহমুগ্ধ ধরার।

শিরক, বেদাত, মিথ্যা এবং কুফরী উৎখাতে,
আপোষহীন বীর ছিলেন তিনি বঙ্গের চট্টলাতে।
এ কারণে গড়েন তিনি দ্বীনি  শিক্ষার এক দ্বার ,
বায়তুশ শরফ নামে যেটি গর্ব এ চট্টলার।।

সৃষ্টির সেরা মানুষ হচ্ছে স্রষ্টার প্রতিনিধি ,
তাইতো তাকে মানতে হবে খোদার দেয়া বিধি ।
বান্দার মেলে যে বিধিতে আল্লাহ তালার দিদার,
এ  জাতীয় শিক্ষা ছিল এ হুজুরে কেবলার।।

সর্বহারা ,পঙ্গু, অনাথ এবং গরীব লোকের 
দেখলে কোমল প্রাণটা, কাঁদতো জব্বার শাহ্ হুজুরের।
ঘুচাতে সব দুঃখ-গ্লানি আর্ত মানবতার,
দেশে বহু প্রতিষ্ঠান তার আছে গর্ব করার।।
                                                                           দু শতাধিক প্রতিষ্ঠান তার দেশে সবার জানা, 
হেফজ, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মক্তব-এতিমখানা। 
আছে আরো সুপ্রতিষ্ঠান কারিগরি শিক্ষার, 
গড়েছেনও চিকিৎসালয় রুগীর সেবা দেয়ার।।

তাঁর এ সকল প্রতিষ্ঠানে দুঃস্থ অগণিত ,
ধন্য হয়ে নিজের দেশে আছেন প্রতিষ্ঠিত ।
তারা হলেন আলিম, হাফিজ, কারী, শিক্ষক, ডাক্তার,
আরো আছেন মেজিষ্ট্রেট ও খ্যাত ইঞ্জিনিয়ার।।

চট্টগ্রামে স্থিত আছে ইসলামি ভার্সিটি,
স্বনামধন্য এ প্রতিষ্ঠাণ তাঁর উদ্যোগের স্মৃতি।
যে ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থা  মন কেড়ে নেয় সবার,
সেটি দেশে গড়তে ছিল তাঁর অবদান অপার।।

বিলাস বহুল গাড়ি-বাড়ি করেননি নিজ তরে
রাখেননি নিজ স্বার্থে বিপুল অর্থ সঞ্চয় করে।
ধার ধারেননি এই দুুুনিয়ার সকল লোভ লালসার অসংখ্য দ্বার খোলেন শুধু মানব সেবা করার।।

বহু পীরকে দেখে লোকে শিষ্যগণে দিতে ,
নিত্য উপঢৌকন শুধু দোয়া খায়ের নিতে ।
মুরিদানের দানে তারা গড়ে টাকার পাহাড়
কিন্তু কভু কাজ করে না দেশে সমাজ সেবার।।  

দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি পাওয়ার তরে
জব্বার হুজুর গড়েন শিষ্য খোদা প্রেমী করে ।
শিক্ষা দিতেন শিষ্যগণকে পাক কোরআন ও সুন্নার,
সেখাতেনও সৃষ্টির সেবা আল্লাহকে পাওয়ার।।

 দেশে যতো সেবামূলক আছে তাঁর প্রতিষ্ঠান, 
সবগুলোতে হয়ে থাকে আমজনতার  কল্যাণ।
মনে তখন জাগে শুধু অনেক প্রশ্ন বার বার,
 সরকার ছাড়া পারে কি কেউ করতে এসব কারবার।। 

ছিলেন না এ ধরায় তিনি মোটেও বিত্তবান ,
ছিল শুধু খোদাপ্রেমে নিবেদিত তার প্রাণ ।
শিষ্যদেরও মন ছিল ওই খোদাপ্রীতির আধার ,
তাইতো তাদের কর্মে  তুষ্টি ছিল সৃষ্টিকর্তার।।

সত্য, নীতি , উদারতা, ঐক্য ও সম্প্রীতি ,
মেনে চলার মাধ্যমে হয় ইসলাম ধর্মের রীতি।
ওই রীতিতে গড়ে তোলেন তাঁর সব শিষ্য আর
একতার বন্ধনে তারা ছিলেন একাকার।। 

নিঃস্বার্থে দান করলে এবং থাকলে ঐক্য কাজে 
শান্তি সুখের হিল্লোল জাগে মানুষের সমাজে।
সেবামূলক এত কাজ আর এত সফলতার ,
মূলে ছিল এ চেতনা এ পুণ্যবান বান্দার।। 

পীর হয়েও ছিলেন তিনি সম্রাট মুকুটবিহীন,
জনসেবার হাট বসতো তাই তার দরবারে রাতদিন। দোয়া খায়ের বন্দেগী আর সেবা দিয়ে সবার,
গড়ে তুলতেন সেতুবন্ধন সৃষ্টি ও স্রষ্টার।।

অতি মধুর চরিত্র তার ছিল ধরাধামে ,
রেখেও যান বহু কীর্তি বাংলার চট্টগ্রামে ।
মহৎকর্মে  স্মরণীয় আছেন এ পীর বাংলার,
তাঁর তরে তাই জান্নাত যাচি দরবারে পাক আল্লার।।
                      ..........

করোনা ভাইরাস থেকে শিক্ষা

     মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

বিশ্বকে আজ গ্রাস করেছে
    করোনা ভাইরাসে,
হাজার হাজার প্রাণ নিয়েছে
    মাত্র কয়েক মাসে।

মর্তে সবাই এ ভাইরাসের
     ভয়ে এখন কাতর,
কারণ এটি আক্রান্তকে 
    করে রাখে পর।

সেবায় পায় না আক্রান্ত লোক
    আপন বলতে কেহ,
হয়ে থাকে অসহায় তাই
     নিয়ে রুগ্ন দেহ। 

মরলে তাকে দাফন করতে
      যায় না কেহ কাছে, 
এ ভয়ে যে ভাইরাস যদি
    ধরে ফেলে পাছে।

করোনা দেয় এ শিক্ষা যে 
     কেউ নয় আপন ধরায়,
শুধু আপন সৃষ্টিকর্তা
       দয়াবান ও সহায়।
           ........ 
তারিখঃ ২৭/০৩/২০২০খ্রি.
    
     



Thursday, March 5, 2020

মুসলিম হত্যার নেপথ্যে

মুসলিম হত্যার নেপথ্যে
             মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

পৃথিবীতে মুসলিম হত্যা
             চলছে এখন উল্লাসে,
করলে তাকে কচুকাটা
             সবাই থাকে সুহাসে।

আজ যেনো সে আজব প্রাণী
              নয় যেনো লোক এ গ্রহের, 
তাইতো বলছে ভিন জাতিরা
              নাম মোছে ফেল্ মুসলিমের।

পেলে মুসলিম মারবি সবে
            রাখবি না কেউ তাকে আর, 
বলছে তারা মুসলিম হচ্ছে
             নীচু জাতি এ ধরার।

তারাই হবে পুরস্কৃত
             যারা মারবে মুসলমান,
হবে আরো নোবেল জয়ী
             থাকবে ধরায় মহীয়ান।

কেনো যে আজ মারছে মুসলিম
         এ প্রশ্নটির নেই জবাব,  
ভয়ে এখন এমন প্রশ্ন
          করার লোকও খুব অভাব।

এ জন্যে সে, যে দিকে যায়
          সে দিকে খায় মার আর মার,
পাচ্ছে না তাই ধরাতলে
            পথও খুঁজে পালাবার।

ছিল সেরা এক কালে সে
              কাঁপতো ধরা তার ভয়ে,
শৌর্যে-বীর্যে বিশ্ববুকে
              থাকতো সদা বিজয়ে।

ধরায় তাকে দেখলে সবে
            বলতো প্রভুর আশীর্বাদ,
এখন কিন্তু দেখতে পায় সে
             নির্যাতনের মরণ ফাঁদ।

কিন্তু কেন হচ্ছে এমন
             বলছি শুনো মুসলমান,
তোমার কাছে তোমার ভায়ের
             একটুও নেই দাম ও মান।

একে অন্যের বিরোধীতায়
         করছো ঐক্যের সর্বনাশ,
নগ্ননাচন চালাও আরো
         দেখলে তোমার ভায়ের লাশ।

গদির লোভে তদানীন্তন
          পাকিস্তানের মুসলমান,
একাত্তোরে বাংলায় করে
           আপন ভাইয়ের রক্তপান।

বাংলাদেশে মুসলমানদের
             সমাজটাকে দেখো আজ,
ভাইয়ে ভাইয়ে কেমন করে
              সাজে নিত্য রণসাজ।

সুন্নি-ওয়াহাব, মাজারপ্রেমী,
              পীর মুরিদ আর ভান্ডারী,
যারা একদল অপর দলের 
                উপর চালায় তরবারি।

সাদ্দাম হোসেন মেরেছিল
                বহু কুর্দী দেশে তার,
লাদেন প্রশ্নে হাজার হাজার
      আফগান মুসলিম হয় ছারখার।

সৌদিয়ারা ইয়ামিনীদের
               মারছে এখন খুব জোরে,
সিরিয়াতে ভাইয়ের মাংস
               ভাইয়ে খাচ্ছে পেঠভরে।

শিয়া-সুন্নি দাঙ্গায় মরে
             বহু মুসলিম ফি বছর,
আরো কত মরছে মুসলিম
             কে রাখতেছে কার খবর।

মুসলিম জাতির পতন হোক তা
              চায় ইহুদী আর খ্রিস্টান,
যাদের সাথে আছে আরো
                মুনাফিক প্রীতির টান।

বিশ্বের কিন্তু অর্থনৈতিক
               অবস্থাটা নিয়ন্ত্রণ,
করার মত মুসলমানদের
              আছে ভুমি, আছে ধন।

তাদের এখন দরকার শুধু
           সম্প্রীতি আর একতা, 
এতে তাদের বাড়বে শক্তি
         থাকবে না আর দীনতা। 

মুসলমানের আছে আরো
               সেরা গ্রন্থ আলকোরআন,
এটি হচ্ছে মানবজাতির
                সব সমস্যার সমাধান।

কোরআন-সুন্নার বিধান মেনে
                  জাগলে মুসলিম একতায়,
সকল জাতি থাকবে তাদের
                    অনুগত এ ধরায়।

তাই এ জাতি দুর্বল করতে
                শত্রুপক্ষের লোক সকল।
মুসলমানদের মাঝে বসায়
                 বিভাজনের নানা কল।

বোকা মুসলিম বোঝে না তা
                  আটকা পড়ে ওই কলে
তখন তাকে মারতে থাকে
                   পাপীষ্ঠদের সব দলে।

যেমনটি আজ মারছে মুসলিম
                 ফিলিস্তিন ও আফ্রিকায়,
কাশ্মীরেও পশুর মত
                  হত্যা চালায় ইণ্ডিয়ায়।

মিয়ানমারে বইছে এখন
                 মুসলমানদের রক্তের ঢল,
দগ্ধ এবং জবাই করে
                 তাদের মারে পাপীর দল।

মোদি সরকার ভেঙ্গে ফেলে
             বাবরি মসজিদ অযোদ্যায়,
প্রতিবাদে ভারতব্যাপী
                   বহু মুসলিম প্রাণ হারায়। 
                   
হায়রে মুসলিম, আর কত কাল
               খেতে থাকবে এমন মার,
পেছন দিকে ফিরে দেখো
                ছিলে তুমি জাতটা কার।

তোমার মাঝে নেই কি সে তেজ
               আলী এবং খালিদের?
দেখলে যাদের শুরু হতো 
                হৃদয়কম্পন জালিমের।

আল্লাহ আর রাসূলপ্রীতি
                 হৃদয়ে দাও ঊর্ধ্বে স্থান,
ইব্রাহীমি খোদাপ্রেমে
                 অগ্নি কর ফুল বাগান।

ভবে করো সৌহার্দ্য আর
                পরামর্শে কাল যাপন,
জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে
                তেজী করো নিজের মন।

গুণের মুসলিম হলে তুমি
                      সুখী হবে ধরাতে,
অগ্রে থাকবে তোমার আসন
                     বিশ্ব থাকবে পশ্চাতে।
                    ......

Wednesday, January 15, 2020

এয়াকুব নগর, আমার গ্রাম

মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

শ্যামল রূপধারী এ মোহমুগ্ধ স্থান
যেখানে তৃণ- লতা ও বৃক্ষের ডালে,
চলে অপূর্ব নাচ সমীরণের তালে,
আর কাকলি মুখর থাকে দিনমান।
ফুলে আর ফলে থাকে প্রকৃতি অম্লান, 
দিনে দিবাকর আর শশি নিশিকালে
উজ্জ্বল কিরণে হাসে নিজ নিজ চালে,
যে হাসিতে থাকে এটি রূপে মহীয়ান।

স্থিত  এর পাশে এক সমৃদ্ধ ভূধর, 
নৈসর্গিক রূপে এটি দেখায় অনন্য।
এ গ্রামে জনজীবন থাকে সুখকর, 
প্রীতিভরা থাকেে  সব লোকের অন্তর,
এখানে জন্মেছে যারা, তারা অতি ধন্য,
কারণ এটি ধন ও রূপের আকর।
                  ..........