Saturday, July 13, 2024

আমার প্রিয় কর্মস্থল রেলওয়ে পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য- সদস্যার প্রতি সশ্রদ্ধ স্বীকৃতি।

আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান রেলওয়ে পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় পরিবারের  সকল সদস্যে-সদস্যা ও এর সাথে সম্পৃক্ত সকলের কাছে আমার প্রতি আন্তরিক ভালোবাসার জন্যে  আমি সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞ।                .......... 

আমি মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী, সহকারী প্রধানশিক্ষক, রেলওয়ে পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, ২য় বার হৃদরোগে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়ে ন্যাশনাল হসপিটাল, চট্টগ্রামে আই সি ইউ-তে পাঁচ দিন ( ২৬-০৬-২০২৪ থেকে ৩০-০৬-২০২৪ খ্রি. পর্যন্ত) চিকিৎসাধীন ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর অশেষ দয়ায় প্রাণ ফিরে পেয়ে বর্তমানে নিজ আলয়ে বিশ্রাম নিচ্ছি। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রি. থেকে ০৩ অক্টোবর ২০২৪ খ্রি. পর্যন্ত মোট দশ দিন একই রোগে এ হসপিটালে আই সি ইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলাম। ১ম বার এবং এবার হসপিটালে থাকাকালীন সময়ে আমার প্রাণপ্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রেলওয়ে পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের স্বনামধন্য ও সুযোগ্য মাননীয় প্রধান শিক্ষক মো. শরীফুল ইসলাম শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও আমাকে দেখার জন্যে প্রতিদিন হসপিটালে গমন করতেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতেন। প্রথম বার যখন আমি ন্যাশনাল হসপিটাল চট্টগ্রামে আই, সি, ইউ-তে চিকিৎসাধীন ছিলাম তখন তিনিই আমার রোগমুক্তির জন্যে সবার কাছে দোয়া চেয়ে FB-তে পোস্ট দিয়েছিলেন। এতে আমার অসুস্থতার কথা দেশ-বিদেশে প্রচারিত হলে বহু লোক আমার রোগমুক্তির জন্যে দোয়া করেন এবং দেশ ও বিদেশ থেকে অনেকে আমার খোঁজখবর নেন। এছাড়াও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সম্মানিত সভাপতি,  সকল সদস্য, শিক্ষক -শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রী মাঝে মধ্যে আমার খোঁজখবর  নেয়ার  জন্যে হসপিটালে আসা যাওয়া করতেন এবং বিধাতার নিকট আমার রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা করতেন। সম্মানিত শিক্ষক- শিক্ষিকাগণ প্রধান শিক্ষক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে বিদ্যালয় আরম্ভ হওয়ার পূর্বে এসেমব্লির পরে সকল ছাত্র-ছাত্রী আমার জন্যে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনাও করেছিলেন।  সত্যিকর অর্থে একজন মুমূর্ষু রুগী তার আপনজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভার্থীদের কাছ থেকে এমনটিই কামনা করে থাকে। এটি আমি আমার প্রিয় প্রতিষ্ঠান রেলওয়ে পাবলিক স্কুল পরিবারের সকল সদস্য থেকে পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমার প্রতি এহেন হৃদ্যতার জন্যে আমি তাদের  সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে আমি এ জটিল রোগে ভোগছি। আমার  এ রুগ্ন অবস্থায়  প্রধানশিক্ষক মহোদয় বিদ্যালয়ে  তাঁর নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আমার প্রায় দায়িত্ব তিনি পালন করতেন। বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক-শিক্ষিকাগণও আমার কাজে আমাকে তাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করে আমার কর্মের চাপ কমিয়ে দিতেন ।  প্রথম বার আই সি ইউ থেকে রিলিজ পাওয়ার পর মাননীয় প্রধানশিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান ও  সকল সদস্য আমকে চিকিৎসা ছুটিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে এমন  দুরাবস্থায় আমাকে যে কৃতার্থ করেছেন তা আমি আমৃত্যু স্মরণ রাখবো এবং তজ্জন্য চির কৃতার্থ থাকবো। আমার প্রতি আমার এ বিদ্যালয়ের সকল সদস্যের এহেন আন্তরিকতা, সহমর্মিতা, সহযোগিতা, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনে সত্যিই আমি বিমোহিত, গর্বিত ও কৃতজ্ঞ। পরিশেষে আমি আমার রোগমুক্তির জন্যে সকলের নিকট দোয়ার আবেদন করছি। আমি চাকুরী থেকে অবসরে যাচ্ছি আগামী২৫-০১-২০২৫ খ্রি. তারিখে, যা আর মাত্র পাঁচ মাস বাকি। রোগের জটিলতার কারণে আমার পক্ষে বিদ্যালয়ে সবার সাথে মিলেমিশে স্বীয় দায়িত্ব পালন করা আদৌ সম্ভবপর হচ্ছে না বিধায় আমি অন্তর জ্বালায় ভোগছি। অত্র বিদ্যালয়ে বিগত বিশ বছরের মায়া আমার হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে। এ মায়ার বিচ্যুতি যে কতই বেদনার তা' আমার মতো ভুক্তভোগী ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ বুঝবে না। যাহোক, এ বিদ্যালয়ে বিশ বছর কর্মকালীন সময়ের শুরু থেকে অদ্যাবধি আমার কোনো আচার-আচরণে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীসহ বিদ্যালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট যে-কেহ মনে কোনো প্রকার ব্যথা  পেয়ে থাকলে তজ্জন্য আমি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি কামনা করছি। সবাই আমাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ক্ষমা করে দেবেন।

মহান আল্লাহ আমার প্রিয় স্বনামধন্য রেলওয়ের পাবলিক স্কুল পরিবারের সকল সদস্যকে শারিরীক সুস্থতাসহ সার্বিক কল্যাণ দান করুক এবং বিদ্যালয়টির উত্তরোত্তর সফলতা চিরস্থায়ী রাখুক আর এর বর্তমান কাণ্ডারী মাননীয় প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের শ্রদ্ধেয় সভাপতি, সকল সদস্য-সদস্যা ও শিক্ষক-শিক্ষিকার কর্মপ্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টির খ্যাতি দেশময় তথা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ুক। আমিন। সবার প্রতি আবারও  সশ্রদ্ধ সালাম ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আমি আমার মনের আকুতির ইতি টানলাম।
আল্লাহ হাফেজ।।

Monday, July 8, 2024

শিবির বর্ধন

শিবির খুঁজো, শিবির ধরো শিবির মারো জোরে,
ঘরে গিয়ে দেখো তোমার ছেলে শিবির করে।




Monday, June 17, 2024

দাও মুমিন কুরবান

দাও মুমিন কুরবান
       মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখ আজ
দাও মুমিন কোরবান,
নিজের ভেতর জাগিয়ে দাও
ইব্রাহীমী প্রাণ।
শূন্যমনে পূর্ণ করো ঈসমাঈলী ধ্যান-
জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখ আজ দাও মুমিন কোরবান।।

মনে জাগা পশুটাকে
জবাই করো আগে,
সুপ্রবৃত্তি মনে যেন
চাঙ্গা হয়ে জাগে।
কোরবানীতে মনটাকে আজ করো মহীয়ান-
জিলহজ্বে মাসের দশ তারিখ আজ দাও মুমিন কোরবান।।

কোরবানিটা ত্যাগের উৎসব
ভোগের উৎসব নয়,
মনের ভেতর রাখতে হবে
সৃষ্টিকর্তার ভয়।
সর্বপ্রীতির ওপর রেখো খোদাপ্রীতির স্থান-
জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখ আজ দাও মুমিন কোরবান।।

ইব্রাহীমের ত্যাগের শিক্ষা
কুরবানিতে পাবে,
মানতে হবে সে মোতাবেক
খোদার আদেশ ভবে।
ত্যাগ করা চাই প্রয়োজনে ধন-মান, জন আর প্রাণ-
জিলহজ্বেমাসের দশ তারিখ আজ দাও মুমিন কোরবান।।

খোদার নূরে মনটা রেখো
নিত্য আলোময়,
হিংসা-বিদ্বেষ আর লোভমুক্ত
রেখো নিজ হৃদয়।
সৃষ্টির সেবায় সাধ্যমত রেখো অবদান-
জিলহজ্বে মাসের  দশ তারিখ আজ দাও মুমিন কোরবান।।

ধৈর্য, সত্য, উদারতা 
রেখো মনের মাঝে,
পাপাচারের সুরটি যেনো
হৃদয়ে না বাজে।
এ প্রতিজ্ঞায় কবুল হোক আজ মোমিনদের কুরবান-
জিলহজ্ব মাসের দশ তারিখ আজ দাও মুমিন কুরবান।।

Sunday, June 16, 2024

মহনবীর নবুয়ত প্রাপ্তি নিয়ে দুজন সুন্নি আলেমের মাঝে তর্ক প্রসঙ্গে

তারা দুজনই সুন্নি জামায়াতের আলেম এবং একই গ্রুপের লোক বলে প্রতিয়মান হয়। মহানবী (স.) এর নবুয়ত সম্পর্কে তাদের ব্যক্তিগত মতামত প্রতিষ্ঠিত  করার জন্যে তারা নাটকটি সাজিয়েছেন। এটি যে একটি সাজানো নাটক তা তাদের এ আলাপচারিতা দ্বারা  সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়। তবে এ কথা ঠিক যে, বিজ্ঞ শায়খদের কাছে এসব সুন্নি আলেম এ বিষয়ে দলিল এবং যুক্তিতে যে  দাঁড়াতে পারবে না তা নিশ্চিত। তাদের লজ্জা থাকলে এক্ষনি এসব তর্কবিতর্ক বন্ধ করে তাদের নিজেদের মান সম্মান রক্ষা করা উচিত। তুচ্ছ বিষয়ে তাদের এহেন বাড়াবাড়ি পবিত্র ধর্ম ইসলামের ভাবমূর্তিকে বিজাতির কাছে খাটো করে তুলছে।

হযরত মুহম্মদ সা. মানব সৃষ্টিতে প্রথম থেকে আল্লাহ কর্তৃক সর্বশেষ নবী হিসেবে নির্ধারিত ছিলেন। তাই সকল নবীগণের পরে আল্লাহ উনাকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেন। দুনিয়াতে উনার চল্লিশ বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে মহান আল্লাহ তাঁকে সর্বশেষ নবী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নবুয়তের দায়িত্ব প্রদান করেন। এ সুন্নি আলেম যে হাদিসটি এখন বর্ণনা করছেন সে হাদিসের মর্মবাণী এটাই। আল্লাহ সকলকে বুঝার তৌফিক ও হিদায়ত দান করুন। আমীন। এ ছাড়া মহানবী (স.) এর নবুয়ত প্রাপ্তি  সম্পর্কে অন্য কোনো যুক্তি বা কোনো কথা কারো কাছে গ্রহণযোগ্য ওসমর্থনযোগ্য হবে না।

Friday, June 14, 2024

ভন্ড সমাচার

ভন্ড সমাচার
       মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

ভন্ডদের আজ কদর বেশি
              বাংলাদেশের ভেতরে,
ভক্তি তাদের করে বহু
              মানুষরূপী ইতরে।

নেইকো তাদের ধর্মীয় জ্ঞান
            দেখায় ধর্মে শ্রদ্ধা খুব, 
শয়তানেরই চেলা তারা
            বেশভূষায় নেয় অলীর রূপ।

খানকায় বসায় গাঁজার আসর
            মারে গাঁজায় নেশারটান,
মাতালামি আর আস্ফালনে
          চালায় জিকির, করে ধ্যান।

পীরে গাহে বাউল গীতি
          ভক্তরা কয় ইল্লাল্লাহ,
গান-জিকিরে কাঁপায় তারা
        খানকাসহ মহল্লা।

নাচ-গান- মদ আর জেনায় তাদের
             খানকা থাকে সরগরম,
বিজ্ঞজনে দেখলে তাদের
               বলে পাপী, বেশরম।

জাহান্নামের পথিক হবে
          চললে তাদের পথ ধরে,
শাস্ত্রবিদদের কথা এখন
            শোনে না সব বর্বরে। .

Wednesday, June 5, 2024

বাংলার গ্রীষ্মে

  বাংলার গ্রীষ্মে
     মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

গ্রীষ্মে রবি দীপ্তহাসি নভলোকে হাসে
যে হাসিতে অগ্নিদাহ বসুমতি নাশে।

দহনে তার  পথ ও প্রান্তর শুধু খাঁ খাঁ করে,
ঘর-দুয়ার আর মাঠ-ঘাট যেন অগ্নিতে  যায় ভরে।

পথিক এবং পশু পাখি পানির পিপাশায়,
ছটপট করে থাকে যেন বক্ষ ফেটে যায়।

ছোট নদী, ডোবা,খাল আর বাপী আছে যত, 
কেঁদে কেঁদে মাগে যেন পানি অবিরত।

সূর্যের প্রখর তাপে গাঁয়ে বাতাসের আশায়
বসে বসে লোকজন সময় কটায় গাছ তলায়।

খরার তাপে ভস্ম করে সোনালি ফসল,
নিঃস্ব হয়ে কৃষাণেরা ফেলে চোখের জল।

পাড়া-গাঁয়ে নেমে আসে মহামারী রোগ,
ঘটে এতে মৃত্যু এবং নানারূপ দুর্ভোগ।

 অনাবৃষ্টি দেখা দিলে পল্লিতে লোকজন, 
মহাপ্রভুর কাছে শুধু করে আবেদন।

মাঝে মাঝে কালবোশেখি বীরত্বের ভাব দেখায়,
প্রবল  উন্মাদনায় আরও প্রলয়ের নাচ চালায়। 

গাছপালা ফুল, ফসল, শস্য, কুটির আর সব বন
শিকারে হয় পরিণত করলে সে নাচন।

জরা-জীর্ণ যত কিছু থাকে এ ধরায়,
তাড়িত হয় সবগুলো তার নাচনের লীলায়।

তার প্রলয়ের নাচের শাড়ির রঙ কুচকুচে কালো,
দ্রুত ঢেকে ফেলে এটি দিনের উজ্জ্বল আলো।

আনন্দে সে বজ্রনাদে চালায় বিজলির খেলা,
মাঝে মধ্যে তাজা তাজা প্রাণ নিয়ে যায় মেলা।

বিদ্রোহী এক বীরের মত হয়ে আগুয়ান,
প্রবীনে সে দিয়ে থাকে নবীনেরই প্রাণ।

জাগে এতে নবীনেরা নব উদ্দীপনায়,
রঙতরঙ্গে যেন তারা সমগ্র দেশ ভাসায়।

নিশিকালে চলে গাঁয়ে গীতি সারী-জারী 
আঙ্গিনাতে গল্প নিয়ে বসে পল্লিনারী।

জ্যোৎস্নারাতে পল্লিগ্রামে নৈশভোজের পরে,
লোকজন বসে গল্প করে উন্মুক্ত প্রান্তরে।

সমগ্র দেশ উৎসব মূখর থাকে নাচ-গান-মেলায়,
দোকানিদের হালখাতা আর মাঠে বলিখেলায়।

পল্লিগাঁয়ে ওড়ে ঘুড়ি নীলাকাশের পানে,
নানা রঙের ঘুড়িতে ব্যোম সাজে সর্বখানে।

সোনালু, জুঁই, কৃষ্ণচূড়া,বেলি, গন্ধরাজ,
আরো বহু ফুলে থাকে গ্রীষ্মকালের সাজ।

গাছে গাছে সুমিষ্ট ফল ঝুলে থরে থরে,
বৃক্ষশাখা মুখর রাখে পাখিরা গান করে।

ভরা থাকে আম, জাম, লিচু আনারস কাঠাল,
 মধুফলে প্রাণটা শীতল করে গ্রীষ্মকাল।

রসনাতে সরসতা গ্রীষ্মে করে দান,
যদিও তার দহনে হয় ধরনীটা ম্লান।

                      ........

Tuesday, June 4, 2024

বাংলার গ্রীষ্মে (প্রকাশের জন্য)

বাংলার গ্রীষ্মে

মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

গ্রীষ্মে রবি নভোলোকে দীপ্তহাসি হাসে
যে হাসিতে অগ্নিদাহ বসুমতি নাশে।

দহনে তার  পথ ও প্রান্তর শুধু খাঁ খাঁ করে,
 ঘর-দুয়ার আর মাঠ-ঘাট যেন অগ্নিতে  যায় ভরে।

পথিক এবং পশু পাখি পানির পিপাশায়,
ছটপট করতে থাকে যেন বক্ষ ফেটে যায়।

ছোট নদী, ডোবা,খাল আর বাপী আছে যত, 
কেঁদে কেঁদে মাগে যেন পানি অবিরত।

সূর্যের প্রখর তাপে গাঁয়ে বাতাসের আশায়
লোকজন বসে বসে সময় কাটায় গাছ তলায়।
         
খরার তাপে ভষ্ম করে সোনালি ফসল,
নিঃস্ব হয়ে কৃষাণেরা ফেলে চোখের জল।

পাড়া-গাঁয়ে নেমে আসে মহামারী রোগ,
ঘটে এতে মৃত্যু এবং নানারূপ দুর্ভোগ।

 অনাবৃষ্টি দেখা দিলে পল্লিতে লোকজন, 
মহাপ্রভুর কাছে শুধু করে আবেদন।

শুক্রবারে গাঁয়ের কিছু ভক্ত মুসলমান,
ফিরনি-পায়েস গরীবদের আর মিসকিনদের বিলান।

কোরান খতম, তাহলিল, মাহফিল চলে নানা স্থানে, 
যেন প্রভু সন্তুষ্ট হোন ধরায় বারি দানে।

মাঝে মাঝে কালবোশেখি বীরত্বের ভাব দেখায়,
প্রবল  উন্মাদনায় আরও প্রলয়ের নাচ চালায়। 

গাছপালা ফুল, ফসল, শস্য, কুটির আর সব বন
শিকারে হয় পরিণত করলে সে নাচন।

জরা-জীর্ণ যত কিছু থাকে এ ধরায়,
তাড়িত হয় সবগুলো তার নাচনের লীলায়।

তার প্রলয়ের নাচের শাড়ির রঙ কুচকুচে কালো,
দ্রুত ঢেকে ফেলে এটি দিনের উজ্জ্বল আলো।

আনন্দে সে বজ্রনাদে চালায় বিজলির খেলা,
মাঝে মধ্যে তাজা তাজা প্রাণ নিয়ে যায় মেলা।

বিদ্রোহী এক বীরের মত হয়ে আগুয়ান,
প্রবীনে সে দিয়ে থাকে নবীনেরই প্রাণ।

জাগে এতে নবীনেরা নব উদ্দীপনায়,
রঙতরঙ্গে যেন তারা সমগ্র দেশ ভাসায়।

নিশিকালে চলে গাঁয়ে গীতি সারী-জারী 
আঙ্গিনাতে গল্প নিয়ে বসে পল্লিনারী।

জ্যোৎস্নারাতে গাঁয়ের পুরুষ নৈশভোজের পরে
বসে বসে গল্প করে উন্মুক্ত প্রান্তরে।

সমগ্র দেশ উৎসব মূখর থাকে নাচ-গান-মেলায়,
দোকানিদের হালখাতা আর মাঠে বলিখেলায়।

পল্লিগাঁয়ে ওড়ে ঘুড়ি নীলাকাশের পানে,
নানা রঙের ঘুড়িতে ব্যোম সাজে সর্বখানে।

সোনালু, জুঁই, কৃষ্ণচূড়া,বেলি, গন্ধরাজ,
আরো বহু ফুলে থাকে গ্রীষ্মকালের সাজ।

গাছে গাছে সুমিষ্ট ফল ঝুলে থরে থরে,
বৃক্ষশাখা মুখর রাখে পাখিরা গান করে।

ভরা থাকে আম, জাম, লিচু আনারস কাঠাল,
 মধুফলে প্রাণটা শীতল করে গ্রীষ্মকাল।

রসনাতে সরসতা গ্রীষ্মে করে দান,
যদিও তার দহনে হয় ধরনীটা ম্লান।
                      ........

Wednesday, May 29, 2024

তালগাছ নামক গদি রক্ষা

মুহাম্মদ আবদুর মান্নান ইয়াকুবী

চলে গুম আর খুনাখুনি
এখন নেতার নীতিতে,
উদ্দেশ্য এর একটা শুধু
টিকে থাকা গদিতে।

                 তাইতো কারো নেই সমতা
                 কথা কর্ম আর চিন্তায়
                 ঐক্য, সত্য, উদারতা
                  গেছে এখন সব গোল্লায়।

ধৈর্য-সহ্য, ন্যায়-নীতি সব
হয়ে গেছে আজ বর্জ্য,
চরিত্রেও দেখায় নেতা
বিশ্বসেরা নির্লজ্জ।

রেষারেষি চলে শুধু
আপন স্বার্থ রক্ষার্থে,
কিন্তু কারো নিবেদিত
মন থাকে না পরার্থে।

           অন্যায়ের আজ প্রতিবাদ কেউ
           করতে গেলে খায় গুলি,
           গুণীলোকজন এ কারণে
            নিত্য হয়ে যায় বলি।

হলেও হোক সর্বনাস আজ
দেশ ও জাতি পুরোটা,
থাকা চাই নিজ অধিকারে
তালগাছ নামক গদিটা।
                     ........

Monday, May 27, 2024

মাতৃভূমি

খুব সুন্দর হয়েছে। তবে কয়েক জায়গায় স্বরবৃত্ত ছন্দের মাত্রা ঠিক হয়নি বিধায় ছন্দপতন ঘটেছে।
তাই, তোমার লেখা কবিতাটি ঠিক করে দিলাম।
লেখা চালিয়ে যাও। ধন্যবাদ।

মাতৃভূমি বংলা আমার
     ষঢঋতুর দেশ,
মনমাতানো রূপটি যে তার
      ভাল লাগে বেশ।

নদীি-নালা, খাল-বিল সব এর
          ভরে থাকে মাছে,
গাছের শাখায় হরেক রকম
          পাখপাখালি নাচে।

হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খৃষ্টান
         থাকি পাশাপাশি,
আমরা সবাই একই জাতি
         বাংলা ভাষাভাষী,

চারদিকটা যার সবুজ-শ্যামল
         বন-বনানী ঘেরা,
সে যে আমার জন্মভূমি
          সকল দেশের সেরা।

ভণ্ড রাজার দেশে

ভণ্ড রাজার দেশটাতে সব
   ভণ্ড করে বাস, 
তাইতো সোনার দেশটা এখন
     পুরোই সর্বনাশ।

সততাতে স্বর্গ আসে
    ভণ্ডামিতে নরক, 
নিজকে চিনলে স্বর্গ-নরক
    করা যাবে ফরখ।

 তখন সবে বুঝতে পারবে
     কারা সৃষ্টির সেরা, 
খুনখারাবি, ব্যভিচার সব
     বন্ধ করবে তারা।

এতে দেশে এসে যাবে
     মহাসুখের বান,
হবে না আর ভণ্ডের রাজ্যে
     দুঃখের অবস্থান।

ভণ্ড রাজা নিজকে আড়াল
       করবে ভয়ে বনে,
নীতির রাজা বসবে তখন
      দেশের সিংহাসনে।