Thursday, February 3, 2022

লেখতে পারে ভালোবাসার কবিতা যে জন

লেখতে পারে ভালোবাসার কবিতা যে জন

           মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী
                .......

সঠিকভাবে ভালবাসার
    রয়েছে যার মন,
লেখতে পারে ভালবাসার
    কবিতা সে জন।

সৃষ্টজীবের প্রতি গভীর
        স্নেহ-মমতায়,
হবে না যার গরমিল কভু
    কাজে আর কথায়।

কান্নাটাও আসে না যার
     দেখে দুঃখ শত,
বাস্তবে যে দুঃখের পরে 
   সুখ পায় অবিরত।

জীবনে পথ চলতে যদি
   এসে যায় অভাব,
দিয়ে থাকে অভাবকে যে
    দাঁতভাঙ্গা জবাব।

পৃথিবীতে ভালোবাসায় 
    সব করে যে জয়,
আর সুখ-শান্তির কলমযুদ্ধে
       জীবন করে ক্ষয়।

মনটাও যার নিলাম্বরের 
    মত হয় উদার,
তার শোভা পায় ভালবাসার 
    কবিতা লেখার।

               ........

Thursday, December 16, 2021

অতিরিক্ত পানির পিপাসার কারণ

অত্যধিক তৃষ্ণার সমস্যা থেকে মুক্তির উপায় :

·         গোল মরিচের গুঁড়া- ৪ কাপ সিদ্ধ পানির মধ্যে ১ টেবিল চামচ গোল মরিচের গুঁড়া ভালো ভাবে মিশিয়ে ঠান্ডা করুন। যখনই তৃষ্ণা অনুভব করবেন তখনি এই মিশ্রণটি কয়েক চুমুক পান করুন।

·         মৌরি বীজ গুঁড়া- ৫ টেবিল চামচ মৌরি বীজ গুঁড়ার সাথে ২৫০মিলিলিটার পানি মিশ্রিত করে ১ ঘন্টা রেখে ছেঁকে নিন। কয়েক চুমুক করে পান করুন। ম্যালেরিয়ার কারণে যে তৃষ্ণার সৃষ্টি হয় তাঁর জন্য এটা কার্যকরী।

·         বৈচিঁ গুঁড়া- ৩ টেবিল চামুচ বৈচিঁ গুঁড়ার সাথে ২ টেবিল চামচ মধু ভালো ভাবে মিশাতে হবে। দিনে তিনবার এটি গ্রহণ করুন।       

Friday, November 5, 2021

বাংলার হেমন্তে

বাংলার হেমন্তে

মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

কুহেলী ঘোমটা পরে
     এসেছে হেমন্ত,
যেন সে লাজুক নারী
    নয় প্রাণবন্ত।

নেই কোনো দৈন্য তার
     নেই চপলতা,
দানে তার থাকে তৃপ্তি
      থাকে উচ্ছলতা।

কল্যাণী হেমন্তরাণী
   আগমনে যার,
বাংলায় এসে থাকে
    ধনের জোয়ার।

মাঠ তার আগমনে 
    ভরে যায় ধানে,
অপার আনন্দ জাগে
     কৃষকের প্রাণে।

দিগন্ত প্রসারি মাঠে
   দেখে ভরা ধন,
হর্ষে তার এসে যায়
   নিরব রোধন।

দেখে তার এ রোদন
   ব্যোমে দিবাকর,
ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে দেয়, 
   আলো দিনভর।

অশোক, শিরিষ চাঁপা
   শিমুল, পলাশ,
নিসর্গে ফুটিয়ে দেয়
   অপূর্ব সুহাস।

কাশ ফুটে নাচ করে
  নদী-খালকুলে,
উষা থাকে সুবাসিত 
নানা জাত ফুলে। 

দিবালোকে পদ্ম যেন
  আবেগে-উচ্ছ্বাসে,
রবিকে সালাম করে 
  আর নীরে ভাসে।

শশীকে করে সালাম
শাপলারা জলে, 
এ যেনো হেমন্তপ্রীতি
ব্যোমে-জলে চলে।

তাল, বেল, নারকেল 
লেবু,  জামরুল,
পাওয়া যায় এ বঙ্গে
  হেমন্তে  বিপুল।

নীলাকাশে সাদা মেঘ
   আনাঘোনা করে,
রাইফুলের রূপ দেখে 
    মন যায় ভরে।

আকাশটা থাকে অতি
    স্নিগ্ধ ও সুন্দর,
কোথাও মলিনতার 
    পড়ে না আঁচড়।

ধনেভরা হেমন্ত যা
  বিধাতার দান,
রূপসী এ বঙ্গে তার
  স্থান মহীয়ান।    
         .......

Monday, August 9, 2021

কুরবানিতে সাবধান

কোরবানিতে সাবধান
মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

সাবধান, মুসলিম সাবধান,
জিলহজ্বে কোরবানে সাবধান।।

কোরবানি নয় শুধু মাংস খাওয়া ,
চাই এতে আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া।
যদি তার প্রীতিলাভে হয় ত্যাগ দান ,
ইসলামের দৃষ্টিতে হবে কোরবান -
        সাবধান, মুসলিম সাবধান ,
        জিলহজ্বে কোরবানে সাবধান।।

ত্যাগহীন মন হলে কোরবানে তবে,
হবে না তা' কোরবান, পশু বধ হবে ।
ইব্রাহীমী উৎসর্গে, হয়ে তেজী প্রাণ,
আল্লাহর রাহে সবে দাও কোরবান।
     সাবধান, মুসলিম সাবধান ,
     জিলহজ্বে কোরবানে সাবধান।।

গো, মহিষ, ভেঁড়া, উট, দুম্বা আর ছাগ ,
কোরবানি দিয়ে করো মাংসের ভাগ ।
শরীকে মাংসভাগ রাখবে সমান-
সম্প্রীতি বজায় রেখে থেকো অম্লান-
        সাবধান, মুসলিম সাবধান ,
        জিলহজ্বে কোরবানে সাবধান।।

তিন ভাগে ভাগ করে মাংস পশুর ,
দুভাগ বিলাও পেতে সুকৃতি প্রচুর।
দীনে ও কুটুমে করো সে দু'ভাগ দান ,
বাকি ভাগ নিজে রেখে হও পুণ্যবান -
       সাবধান, মুসলিম সাবধান, 
       জিলহজ্বে কোরবানে সাবধান।।

খোদা-প্রীতির ঊর্ধ্বে যে নেই প্রীতি আর,
কোরবানে করো সবে এ প্রমাণ  তার।
উৎসর্গে করো আজ মজবুত ঈমান,
'লা শারিক আল্লা' মুখে, তোল ঐকতান-
       সাবধান, মুসলিম সাবধান,
       জিলহজ্বে কোরবানে সাবধান।। 
                       .......

Monday, June 28, 2021

বোশেখি গান

      বোশেখি গান

    মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

বঙ্গে সব আজ পুলকিত

নববর্ষের রঙ্গে,

অন্তরীক্ষে বিজলি নাচে
বজ্র ধ্বনির সঙ্গে---
এল রে আজ বোশেখ শ্যামল বঙ্গে।।

শিশু, কিশোর-কিশোরী আজ
দেখায় ফুলের মতো,
জ্যোৎস্না যেন যুবতী সব
যুবক রবির মতো।
প্রবীণ জাগে নবীনত্বে বোশেখের মৃদঙ্গে-
       এলরে আজ বোশেখ শ্যামল বঙ্গে।।

নববর্ষের ভাব বিনিময়
চলছে জনে জনে,
ধর্ম-বর্ণের নেই ভেদাভেদ
আজকে কারো মনে।
দিবসটা আজ কাটবে সবার  নানা রঙ্গে- ঢঙ্গে-
      এল রে আজ বোশেখ শ্যামল বঙ্গে।।

মাতাল করা প্রাণের মেলা
চলবে নগর, গাঁয়ে,
গাইবে সখা, নাচবে সখী
নূপুর পরে পায়ে।
বঙ্গে সবে বাংলা সাজে থাকবে রংবেরঙে-
      এল রে আজ বোশেখ শ্যামল বঙ্গে।।

হালখাতা আজ খোলার উৎসব
করবে বণিকগণে, 
প্রাপ্তি শোধের প্রীতি চলবে
মিষ্টি বিতরণে।
গল্পে-গানে, খুশির রোমাঞ্চ জাগবে সবার অঙ্গে-

      এল রে আজ বোশেখ শ্যামল বঙ্গে।।

অগ্নিদীপ্ত নাচন থাকবে 
কৃষ্ণচূড়া গাছে,
মধুর কূজন করবে পাখি
এর শাখায় উল্লাসে।
বনেও আজ ধ্রুপদী নাচ চলবে বাও-তরঙ্গে-
          এল রে আজ বোশেখ শ্যামল বঙ্গে।।

গরীবের আজ থাকবে ভীতি
প্রীতিমাখা প্রাণে,
হঠাৎ যদি কালবোশেখী
ধ্বংস ডেকে আনে,

রেখো না তাই দীনদের প্রভু বোশেখে মন ভঙে।

        এলরে আজ বোশেখ শ্যামল বঙ্গে।।
                                         
                          ..... 

Tuesday, June 8, 2021

সীতাকুন্ডের রূপ

সীতাকুন্ডের রূপ

 মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

সীতাকুন্ডের পূর্বে পাহাড়
    পশ্চিমে সাগর,
মধ্যখান এর উঁচুভুমি
      রূপে মুগ্ধকর।

অপরূপা প্রকৃতি এর 
      হরণ করে মন,
তাইতো ইচ্ছে করে রূপটি
       দেখতে সারাক্ষণ।

সবুজ-শ্যামল এ এলাকার
  খাল-বিল, ঝর্ণাধারা,
ধরাতলে নিত্য থাকে
     রূপে চমকমারা।

পুকুর, ডোবা, খাল ও বিলে
     আছে প্রচুর মৎস্য,
চাষীর ক্ষেতে সারা বছর
    ভরা থাকে শস্য।

বৃক্ষশাখা থাকে মুখর
  পাখপাখালির গানে,
এদের গানের সুরে প্রাণে
    সজিবতা আনে।

বন বাগানে বৃক্ষে থাকে
  ফুল ও ফলের হাসি,
যে হাসিটা দেখলে মনে
    বাজে খুশির বাঁশি।

হরিণ, বানর, পতঙ্গ আর
   বনমোরগের ডাকে,
দিবারাত্র পাহাড় যেন
   উৎসব মুখর থাকে।

মনমাতানো ইকোপার্ক ও
      চন্দ্রনাথ পাহাড়,
দেখতে এসে প্রায়শ ভিড় 
       জমে জনতার।

গুলিয়াখালির সমুদ্রতট
     দেখলে জুড়ায় মন,
রূপ দেখেনি, এর রূপ কভু
     দেখেনি যে জন।

বাঁশবাড়িয়া সাগর সৈকত
     আর কুমিরা ঘাট,
এ দু জায়গায় নিত্য যেন
     বসে রূপের হাট।

এ এলাকার ভাটিয়ারী
      রূপের সেরা স্থান,
এর অপরূপ শোভায় সবার
      উদাস করে প্রাণ।

দেশের সেরা গল্ফ ক্লাবটি এর
     পাহাড়চূড়ায় স্থিত,
লেক, পাহাড় আর শ্যামল রূপে
      আছে তা বেষ্টিত।

এ গল্ফ কোর্সটি সেনা দ্বারা
    নিয়ন্ত্রিত থাকায়,
অপরূপা স্থানটি সদা 
 থাকে নিরাপত্তায়।

স্ফটিক এর মতো স্বচ্চ
    থাকে লেকের জল,
চললে নৌকা এ জলেতে
    রূপ করে ঝলমল।

পাহাড় বেয়ে পাকা সড়ক
     গিয়েছে ওপারে,
 পর্যটকদের মন কাড়ে যার
     অপুর্ব বাহারে।

ফৌজদারহাটের জাহাজঘাটার
       রূপে কাড়ে নয়ন,
সাগরপাড়ে দেখায় যেন
     হচ্ছে নগরায়ন।  

সীতাকুন্ড হলো দেশের
    সেরা শিল্পাঞ্চল, 
তাই এখানে মেলার মতো
    নামে লোকের ঢ়ল।

বুকচিরে এর চলে গেছে
  ট্রাংক রোড় আর রেল পথ,
যার ফলে হয় সারা দেশে
    সহজ যাতায়ত।

স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা আর
      বিশ্ববিদ্যালয়ে,
নিত্য থাকে এ জনপদ
    জ্ঞানের প্রদীপ হয়ে। 

মুক্তার চেয়ে বেশি খাঁটি
    এ এলাকার মাটি,
যে মাটিতে আমার জন্ম
     এবং বসতবাটি।
        ......

Friday, June 4, 2021

ছন্দে যৌতুক বিরোধী কথামালার জবাবে

সুন্দর কথামালা 
    গেঁথে দিলে ছন্দে,
পড়লে তা মন সবার
     নাচে মহানন্দে।

সুখী হোক দম্পতি 
      যাক নিপাত যৌতুক,
জীবনে থাক্ সবার 
       হাসি, খুশি, কৌতুক। 
            .... ….…

Thursday, April 22, 2021

গ্রীষ্মকাল

 বাংলার গ্রীষ্মে

মুহাম্মদ আবদুল মান্নান ইয়াকুবী

অন্তরীক্ষে উষ্মাগমে অরুণের দীপ্তিতে,
হিমারতির প্রখরতা নামে ধরনীতে।

দহনে তার পথ. ও প্রান্তর শুধু খাঁ খাঁ করে,
ঘর-দুয়ার আর মাঠ-ঘাট যেন অনলে যায় ভরে।

ছোট নদী, ডোবা, খাল আর বাপী আছে যতো,
কেঁদে কেঁদে  মাগে যেন পানি অবিরত।

গাঁয়ে সূর্যের প্রখর তাপে বাতাসের আশায়
বসে বসে লোকজন সময় কাটায় গাছতলায়।     
   
খরায় ভষ্ম করে ফেলে সোনালি ফসল,
নিঃস্ব হয়ে কৃষাণেরা ফেলে চোখের জল।

পাড়া-গাঁয়ে নামে আরো মহামারী রোগ,
ঘটে এতে মৃত্যু এবং নানারূপ দুর্ভোগ।

 অনাবৃষ্টি দেখা দিলে পল্লীর মুসলমান
ফিরনি-পায়েস গরীবএবং মাসকিনদের বিলান।

কোরান খতম, তাহলিল, মাহফিল চলে নানা স্থানে, 
যেন প্রভু সন্তুষ্ট হোন ধরায় বারি দানে।

মাঝে মধ্যে  কালবোশেখি বীরত্বের ভাব দেখায়,
উন্মাদনার সাথে আরো প্রলয়ের নাচ চালায়।

গাছপালা ফুল, ফসল, শষ্য, কুটির আর সব বন,
শিকারে হয় পরিণত করলে সে নাচন।

জরা-জীর্ণ যত কিছু থাকে এ ধরায়,
তাড়িত হয় সবগুলো ওই নাচনের লীলায়।

তার প্রলয়ের নাচের শাড়ির রঙ কুচকুচে কালো,
দ্রুত ঢেকে ফেলে এটি দিনের উজ্জ্বল আলো।

আনন্দে সে বজ্রনাদে চালায় বিজলির খেলা,
যে খেলায় সে তাজা তাজা প্রাণ নিয়ে যায় মেলা।

বিদ্রোহী এক বীরের মত হয়ে আগুয়ান,
ধরায় প্রবীন বধ করে সে জাগায় নবীন প্রাণ।

 এতে ধরায় নবীনেরা নব উদ্দীপনায়,
রঙতরঙ্গের প্লাবন এনে সারাটা দেশ রাঙায়।

নিশিকালে চলে গাঁয়ে গীতি সারী-জারী 
আঙ্গিনাতে গল্প নিয়ে বসে পল্লিনারী। 

জ্যোৎস্নারাতে পল্লিগাঁয়ে নৈশভোজের পরে,
লোকজন বসে গল্প করে উন্মুক্ত প্রান্তরে।

সমগ্র দেশ উৎসব মূখর থাকে নাচ-গান-মেলায়,
দোকানিদের হালখাতা আর মাঠে বলিখেলায়।

পল্লিগাঁয়ে ওড়ে ঘুড়ি নীলাকাশের পানে,
নানা রঙের ঘুড়িতে ব্যোম সাজে সর্বখানে।

সোনালু, জুঁই, কৃষ্ণচূড়া,বেলি, গন্ধরাজ,
আরো বহু ফুলে থাকে গ্রীষ্মকালের সাজ।

গাছে গাছে সুমিষ্ট ফল ঝুলে থরে থরে,
বৃক্ষশাখা মুখর রাখে পাখিরা গান করে।

ভরা থাকে আম, জাম, লিচু আনারস কাঠাল,
 মধুফলে প্রাণটা শীতল করে গ্রীষ্মকাল।

রসনাতে সরসতা গ্রীষ্মে করে দান,
যদিও তার দহনে হয় ধরনীটা ম্লান।
                 .......

Tuesday, March 9, 2021

পণ্ডশ্রম

শূন্যতারই অসীমতায়
     ঠাই পাওয়াটা বড় দায়,
পণ্ডশ্রমে অবুঝ মন তাই
     ক্লান্ত হয়ে ঝিমিয়ে যায়।

শান্তনা

কায়াবসন্ত নিয়েছে বিদায়
    মনবসন্ত ঘুমায়,
লাভ কি কবি দাঁড়িয়ে থেকে
    লগ্নের অপেক্ষায়?
        ..... …